ব্রাজিল কি আসলেই চোরের দল ? ইতিহাস, বিশ্লেষণ ও সত্য জেনে নিন (১ম পর্ব)
বর্তমানে ফুটবল
বিশ্বকাপ চলছে ।
চারদিকে শুধু ফুটবলের আমেজ । এর মধ্যেই কিছু প্রশ্ন ও সমালোচনা চলছে সোশ্যাল
মিডিয়াই চলুন সেই বিষয়েই জেনে নিই- এই সিরিজের প্রথম পর্ব এটা ।
ভুমিকা
বিশ্ব ফুটবলে ধারণা করা হয় অন্যতম সফল একটি দল হচ্ছে ব্রাজিল। তারা এখন অব্দি
পাঁচবার বিশ্বকাপ জয় করেছে যদিও তার মধ্যে রয়েছে তিনটি জুলেরীমা টফি এবং বাকি
দুইটা বিশ্বকাপ। ফুটবল ইতিহাসে ব্রাজিলের এমন কিছু ঘটনা রয়েছে যেগুলো আমরা
ইতিহাস ঘাটলে জানতে পারি এবং পরবর্তীতে লোকমুখে ব্রাজিলকে চোরের দল বলতে শোনা
যায়।
সেই সময় সাধারণত প্রযুক্তির ব্যবহার ছিলনা এমন কি ছিল না ভিএআর যার ফলে ব্রাজিল
হয়তো সেই যাত্রাগুলোতে বেঁচে গিয়েছি। চলুন তাহলে আমরা আজকে এ বিষয় নিয়েই
আপনাদেরকে জানাই আমরা যে লোকোমুখি শুনি ব্রাজিল একটি
চোরের দল সেটি
কতটুকু যুক্তিযুক্ত।
ব্রাজিলের জুল রিমে ট্রফি পাওয়া ও চুরি হওয়ার ইতিহাস-
সাবেক ফিফা প্রেসিডেন্ট জুল রিমের নাম অনুযায়ী এ ট্রফির নামকরণ করা হয়। এবং
ঘোষণা দেওয়া হয় যারা তিনবার এই কাপটি জিতবেন তাদের কাছে এই কাপটি স্থায়ীভাবে
দিয়ে দেওয়া হবে। ফিফার পূর্ণ ঘোষণা অনুযায়ী ব্রাজিল দল ১৯৫৮ ১৯৬২ ১৯৭০ সালে
জুল রিমে ট্রফি জয় লাভ করে।
সে হিসাবে তারা এই কাপটি একেবারেই সম্পূর্ণ নিজেদের করে পেয়ে যায়। তারা এটি
একটি বুলেট প্রুফ কাজের বাক্সে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনে রাখা হয়। কিন্তু
উনিশে ডিসেম্বর ১৯৮৩ সালে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা ঘটে। চুরিটি
হয় সেই ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন অর্থাৎ সিবিএফ ভবন থেকে যেখানে একদল চোর প্রবেশ
করে নাইটগার্ড কে বেঁধে ফেলে এবং তাকে খুব চালাকির সাথে আটকে রেখে তারা সেই
ট্রফিটি নিয়ে সেখান থেকে ভেগে যায়।
তারপরে ট্রফি টির ভাগ্যে কি ঘটেছিল তা আমাদের অনেকেরই জানা। তদন্ত করে পুলিশ
ধারণা করেছিল যে চোরেরা এ ট্রফিটি চুরি করে প্রায় ৩.৮ কেজি খাঁটি সোনা এর লোভে
তারা ট্রফিটিকে গুলিয়ে ফেলে এবং সেই সোনা গুলো তারা বাজারে বিক্রি করে অধিক
দামে কিন্তু সেই চোরগুলোর সন্ধান আজকে অফ দিও ব্রাজিল ফেডারেশন বা ব্রাজিলের
সরকার খুঁজে পাইনি বা তারা এর বিরুদ্ধে বড় কোন পদক্ষেপও নেননি।
যার ফলে এখানেও সাধারণ দর্শক এবং ফুটবল অনুরাগের একটা সুযোগ পান ব্রাজিল কে
চোরের দল বলার। এই ঘটনা জেনে বা শুনে অনেকেই ব্রাজিল কে চোরের দল বলেন। এবার
চলুন ব্রাজিলের কয়েকটি বিতর্কিত ম্যাচ নিয়ে আলোচনা করা যাক-
ব্রাজিলের বিতর্কিত ম্যাচগুলো নিয়ে ব্রাজিল খুব একটা ট্রলের স্বীকার বা
ব্রাজিল একটি চোরের দল এটি শুনতে হয় না তার অন্যতম কারণ হচ্ছে ফুটবল ইতিহাসে
যখন এই ধরনের বিতর্কিত ম্যাচ ব্রাজিলের পক্ষে গেছে তখন ফেসবুক বা সোশ্যাল
মিডিয়ার যুগ ছিল না বা তখন ছিল না উন্নত মানের ক্যামেরা বা তখন ছিল না ভি এ আর
এর মত উন্নত মানের সিস্টেম যা দিয়ে এই ধরনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভুল বা বিতর্কিত
সিদ্ধান্ত ধরা যেত ।
বর্তমানে আগের কিছু ক্লিপ বা ইতিহাস ঘাটাঘাটি করলে আমরা দেখতে পাই ব্রাজিলের
ইতিহাস ও খুব একটা শুভ কর নয় তারাও অনেক চুরি বা কূটনৈতিক চাপ দিয়ে এইগুলা
করেছে। এর জন্য কিছু প্রবীণ মানুষকে আজও বলতে শোনা যায় ব্রাজিল একটি চোরের দল।
তো চলুন প্রথম থেকে শুরু করা যাক- জুলরি মে কাপকে বিশ্বকাপ না ধরে ১৯৬২ সাল
থেকে যদি আমরা শুরু করি তারপরেও ব্রাজিলের অসংখ্য বিতর্কিত সিদ্ধান্ত রয়েছে
তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য তুলে ধরা হলো -
১. ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে গারিঞ্চা নামক একটি প্লেয়ারের লাল কার্ড নিয়ে বিতর্ক
১৯৬২ সালের তিনি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের
প্রধান তারকা
পেলে গুরুপ পর্বেই মাঠে আঘাত পেয়ে সম্পূর্ণ টুর্নামেন্ট থেকে সিটকে যান তখনই
তারই দায়িত্ব তুলে নেন গারিঞ্চা। তখন ব্রাজিল গ্রুপ পর্ব থেকে সব ম্যাচে জয়
পাওয়ার পরে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় স্বাগতিক চিলির সেই ম্যাচে গারিঞ্চা একাই
দুটি গোল করেন এবং ব্রাজিল সেই ম্যাচে চার দুই ব্যবধানে জিতে ফাইনাল নিশ্চিত
করে কিন্তু ম্যাচের শেষের দিকে চিনির এক ডিফেন্ডারকে ইচ্ছা করে লাথি মারেন এই
প্লেয়ারটি তৎকালীন রেফারি ইয়ামাসাকি তাকে সরাসরি লালকার্ড প্রদর্শন
করেন।
কিন্তু বিতর্ক এই জায়গায় না আসলে বিতর্কটা হচ্ছে লাল কার্ড খাওয়ার পরে নিয়ম
হচ্ছে সে প্লেয়ার পরবর্তী ম্যাচে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। কিন্তু ফাইনালে
ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ ছিল চোকোস্লোভাকিয়া যে দল তখন অত্যন্ত দক্ষ এবং ভালো মানের
ছিল যার ফলে ব্রাজিল গারিঞ্চা ছাড়া খেলতে রাজি হন না। তারা বিভিন্নভাবে চাপ
প্রকাশ করে তৎকালীন চিলির প্রধানমন্ত্রী থাকা ব্যক্তি কি ওখানে তারা যুক্ত করেন
এবং সেই ম্যাচে ফিফা একটি সিদ্ধান্ত নেয় যেটা ব্রাজিলকে চোর বলতে মানুষের মুখে
শোনা যায়।
কারণ সে ম্যাচের আগে হুট করে ফিফা সিদ্ধান্ত নেয় যে তার এ লাল কার্ডটি বাতিল
করা হলো এবং আকস্মিকভাবে যেদিন এই শুনানিটি হয় যিনি লাইন্সম্যান ছিলেন তিনি
সেই আসরের বিশ্বকাপ থেকে পদত্যাগ করে চিলি ছেড়ে নিজের দেশে চলে যান।
ফলাফল কি ফাইনালে সেই লাল কার্ড পাওয়া সেই গারিঞ্চা নামক প্লেয়ারটি
খেললেন এবং ব্রাজিল সেই ম্যাচে তিন এক গোলে জিতল। এখানে বলা যায় যে ব্রাজিল
একটি চোরের দল কারণ একটি প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বা কূটনৈতিক এ চাপের ফলে ব্রাজিল
এই ম্যাচটি জিতে।
২. ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ নরওয়ের বিরুদ্ধে সেই অদৃশ্য পেনাল্টির রহস্য-
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ টি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ফ্রান্সে। সেই সময় গ্রুপ পর্বের শেষ
ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল এবং নরওয়ে। ম্যাচের প্রথম আর দেব ব্রাজিল এক
শূন্য গোলে এগিয়ে থাকার পরেও হঠাৎ করে ম্যাচের নরওয়ে দুইটি গোল দিয়ে এগিয়ে
যায়।
কিন্তু এই ম্যাচটিতে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অনেক জটিলতা বিশ্বজুড়ে যেহেতু
ম্যাচটি লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছিল। সকলেই এই রেফারিকে ধুয়ে দিচ্ছিলেন সবাই তাকে
তুচ্ছ করে কথা বলেছিলেন। তারপরে এমনও বলতে শোনা যায় যে ম্যাচটির রেফারি চুরি
করেছেন পরবর্তীতে ম্যাচের ৩৬ ঘন্টা পর সুইডেনভিত্তিক একটি টেলিভিশন একটি ফুটেজ
প্রকাশ করেন তাতে দেখা যায় যে ব্রাজিলিয়ান জুনিয়র বাইয়ানো আসলে নরওয়ের
স্ট্রাইকারের জার্সি টেনে ধরেছিলেন।
তখন সকলে নরওয়ে কে চোর বলছিলো কিন্তু পরে দেখা গেলো ব্রাজিলই চোর। এর জন্যেই
মানুষ ব্রাজিল কে চোর বলে। ৩. ২০০২ বিশ্বকাপে- রিভালদোর অস্কারজয়ী অভিনয় ও
বেলজিয়ামের গোল বাতিল- ২০০২ সালের কোরিয়া জাপান বিশ্বকাপে পঞ্চম শিরোপা
জিতেছিলো ব্রাজিল।
এই বিশ্বকাপে কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ছিল ব্রাজিলের পক্ষে। প্রথম নম্বরটি
হচ্ছে রিভালদর নাটক যেই ম্যাচটি ছিল তুরস্কের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে ব্রাজিল ২-১
গোলে গিয়েছিল তারপরেও ম্যাচের শেষ মুহূর্তে কর্নার কিক এর সময় তুরস্কের
ডিফেন্ডার হাকান উনসাল কিছু টা রাগের মাথায় বলটি রিভালদোর দিকে লাথি মেরে
পাঠান।
কিন্তু রিভালদো সেদিন রেফারি কে অভিযোগ করেন যে হাকান তার মুখে বল টি ছুড়ে
মারেন আগে হলুদ কার্ড দেন কিন্তু তার আগেও একটি হলুদ কার্ড ছিল যার ফলে একটি
লাল কার্ড হয়ে যায় এবং সেই প্লেয়ার মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ফল শ্রুতিতে সেই
ম্যাচটি ব্রাজিল জিতে যাই।
পরবর্তীতে ফিফা যখন ভিডিও ফুটেজ দেখে দেখে নিশ্চিত হয় যে ফালতু সম্পূর্ণ
মিথ্যা অভিনয় করেছেন তখন তাকে ফুটবলীয় চেতনা ভঙ্গের জন্য ১২৫০০ সুইজারল্যান্ড
এর টাকা জরিমানা করা হয় কিন্তু চতুরতার কারণে সেই ম্যাচটি তুরস্ক হারে এবং
ব্রাজিল ম্যাচটি জিতে যায়। এই ঘটনার পরেও লোকমুখে বলতে শোনা যায় যে ব্রাজিল
একটি চোরের দল।
এই বিশ্বকাপের আরেকটি উল্লেখ তম ঘটনা সেটি হল রাউন্ড অফ সিক্সটিন এর একটি
ম্যাচে বেলজিয়ামের বৈধকাল বাতিল করে নক আউট পর্বের খেলায় যখন বেলজিয়াম ও
ব্রাজিল শূন্য শূন্য শূন্যতায় তখন হুট করে বেলজিয়াম একটি গোল দেয় কিন্তু সেই
দলটি রেফারি বাতিল করেন। যদিও এটি একটি বৈধ গোল ছিল । এখানেও বিতর্ক সৃষ্টি হয়
এবং ব্রাজিলকে চোরের দল বলা হয়।
শেষ কথা
উপরের তথ্য ও বিশ্লেষণ করেছি আমি আপনি একজন ফুটবল ফ্যান হয়ে থাকলে আপনি
যদি পড়েন সম্পুর্ণ টা তাহলে নিজেই বুঝতে পারবেন ব্রাজিল আসলে চোরের দল কি না
?
আশা করি এ আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়েছেন এবং এই আর্টিকেলটি পড়ে যদি আপনি
আপনার মনের ভেতরে থাকা সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়ে থাকেন তাহলে আপনি আপনার
বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং এইরকম তথ্যসম্বলিত ও গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল পেতে
আমাদের ওয়েবসাইটটি প্রতিদিন ভিজিট করুন। ধন্যবাদ
.png)
.png)
.png)
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url